২০২৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাসের তুলনায় অর্ধেকেরও কম উড়োজাহাজ উৎপাদন করেছে বোয়িং। বিভিন্ন বিভ্রাটে বিপর্যস্ত এ মার্কিন কোম্পানি ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গতকাল এক প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে উৎপাদিত উড়োজাহাজের সংখ্যা প্রকাশ করেছে বোয়িং। তাদের উৎপাদিত ৩৪০টি উড়োজাহাজ এয়ারবাসের ৭৬৬টির অর্ধেকেরও কম।
সাম্প্রতিক টালমাটাল পরিস্থিতিতে বোয়িংয়ের শীর্ষ পদে রদবদল ঘটেছে। গত জুলাই থেকে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নতুন প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গ। বোয়িং আশা করছে, তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের ডেলিভারি বাড়তে পারবে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাঝ আকাশে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ডোর প্যানেল খুলে পড়ে। এরপর বছরব্যাপী একের পর এক বিপত্তি দেখে এ এভিয়েশন জায়ান্ট। যার মধ্যে ছিল সাত সপ্তাহের কর্মবিরতি ও আইনি জটিলতা। বছর শেষ হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায়, যেখানে ১৮১ আরোহীর মধ্যে শুধু দুজন বেঁচে ছিলেন। তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করতে পারেননি, তবে নকশায় ত্রুটির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালেও বিভিন্ন সমস্যার মাঝে ছিল বোয়িং। ওই বছর ৫২৮টি উড়োজাহাজ উৎপাদন করে কোম্পানিটি। তবে তা ২০১৮ সালের রেকর্ড ৮০৬ ডেলিভারির তুলনায় অনেক কম। যদিও কভিড-পূর্ব বছরটিতে দুটি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় বোয়িং সবচেয়ে বড় সংকটপূর্ণ সময় পার করছিল। এরপর কভিড মহামারীর কারণে প্রায় সব আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায়।
বোয়িং বর্তমানে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। খাতসংশ্লিষ্ট প্রকাশনা এয়ার কারেন্ট জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে প্রতি মাসে ৩৮টি ৭৩৭ ম্যাক্স উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে মার্কিন কোম্পানিটি।
তবে এ লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পরামর্শক সংস্থা বার্নস্টেইন বলছে, মে মাসের মধ্যে প্রতি মাসে ৩৮টি উড়োজাহাজ উৎপাদন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। বোয়িং এখনো পুনরুদ্ধারের পথে ফেরেনি। বরং জুলাই নাগাদ এ লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছবে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য অভিজ্ঞ ব্যবস্থাপকের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িং লাগাতার সমস্যায় পড়লেও পুরোপুরি লাভবান হতে পারেনি এয়ারবাস। কারণ তারাও সাপ্লাই চেইন সমস্যায় ভুগছে। গত বছর ৭৭০টি উড়োজাহাজ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করলেও এর থেকে চারটি কম সরবরাহ করেছে।
এয়ারবাসের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিভাগের প্রধান নির্বাহী ক্রিশ্চিয়ান শেরের গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি থাকলেও কোম্পানিটি ভালো একটি বছর পার করেছে। শিগগিরই যাতে ২০১৯ সালের ৮৬৩টি উড়োজাহাজ উৎপাদনের রেকর্ড ভঙ্গ হয়, সে চেষ্টা করছেন তারা।